Header Ads Widget

Responsive Advertisement

এলার্জি কি? এলার্জি কেন হয়? ও এলার্জি হলে করুণীয়

 

এলার্জি কি?

এলার্জি হলো পরিবর্তিত প্রতিক্রিয়া।ধুলাবালি, ঔষধ, নির্ধারিত কিছু খাবার,ফুলের রেণু ইত্যাদির ফলে শরীরে যে প্রদাহজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয় তাকেই এলার্জি বলে।

এলার্জি হলো বহিরাগত কোন বস্তুর বিরুদ্ধে মানব শরীরের একটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি প্রতিক্রিয়ার। কিছু মানুষের ক্ষেএে এই বহিরাগত বস্তুটি কিন্তু ক্ষতিকর না। স্বাস্থ্যবান  মানুষের ক্ষেএে জীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এলার্জি হওয়ার লক্ষণ বা উপসর্গ

একেক জন মানুষের একেক ধরণের এলার্জি হতে পারে।বিভিন্ন ধরণের এলার্জি র বিভিন্ন ধরণের উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়। যেমনঃ

ধূলাবালি থেকে এলার্জি

(১) নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা সর্দি লাগা।

(২) হাঁচি বা কাশি হওয়া।

(৩) চুলকানি বা চোখ লাল হয়ে পানি ঝড়া।

(৪) দম বন্ধ অনুভব করা এবং বুক ধরফর আওয়াজ করা।

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস

(১) সর্দি বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া।

(২) ত্বকে ও চোখে চুলকানি হওয়া।

(৩) হাঁচি ও কাশি হওয়া।

(৪) ক্লান্তি এবং নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ঘুমের ব্যাঘাত জনিত সমস্যা সৃষ্টি হয় এই এলার্জির কারণে। 

ত্বকের এলার্জি

ত্বকের এলার্জি হওয়ার সাধারণ উপসর্গ হলো, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া,ত্বকে চুলকানি হওয়া,ও ত্বক ফুলে যাওয়া।ত্বকের অবস্থা নির্ণয়ে সহায়তা করতে পারে এমন কিছু ক্ষুদ্র পার্থ্যক ও রয়েছে। 

ছুলি থেকে এলার্জি

ত্বকে যদি ছুলি হয় তাহলে ত্বক লাল জয়ে ফুলে যায়।শরীরের কিছু জায়গা উচু হয়ে লালা  হয়ে যায়।এ রকম এলার্জি শরীরের যে কোন জায়গায় হতে পারে।এটি বেশি ভাগ সময় হয়ে থাকে চোখের আশেপাশে, ঠোঁট বা গালে।মাঝে মাঝে এটি যৌনাঙ্গে, গলা বা পেটের ভিতর এই এলার্জি হতে পারে।

কীটপতঙ্গ এবং পোষ্য প্রাণী থেকে এলার্জি

পোষ্য প্রাণী থেকে এলার্জি হওয়ার লক্ষণ, ধূলাবালি হতে এলার্জি হওয়ার মত ই উপসর্গ।কীটপতঙ্গ থেকে যে এলার্জি হয়, সেই এলার্জি র লক্ষণ গুলো হলো-

(১) মুখ মন্ডল, জিহ্বা, গলা এবং ঠোঁট ফুলে যাওয়া।

(২) শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।

(৩) বমি বমি ভাব হওয়া বা বমি করা।

(৪) পেটের ভিতর সংকোচ হওয়া।

শরীরে   পতঙ্গ কামড় বা হুল ফোটালে সেখানে চুলকানি,ছুলি এবং অবশেষে ছোট ফোসকা পড়ে যায়।কিছু ক্ষেএে ফোসকার ভিতরে পুজের মত বস্তু ও হতে পারে।

খাদ্যের এলার্জি র লক্ষণ 

খাদ্যের এলার্জি হওয়ার উপসর্গ গুলো খাওয়ার ঠিক পর বা কয়েক ঘণ্টা পরে ও দেখা দিতে পারে। কোন কোন সময় এনাফাইল্যাক্সিস নামক মারাত্মক রোগ ও হতে পারে খাদ্যের এই এলার্জি র জন্য।  এই এলার্জি র লক্ষণ গুলো হলো

(১) দম বন্ধ অনুভব হওয়া।

(২) ঠোঁট, গলা, জিহবা ফুলে লাল হয়ে যাওয়া।

(৩) হাত ও পায়ে ঝি ঝি ধরা ইত্যাদি। 

যেসব খাবার খেলে হতে পারে এলার্জি

কয়েক ধরণের খাবারে এলার্জি হতে পারে

(১) গরুর মাংস।

(২) ডিম।

(৩) চিনাবাদাম।

(৪) পুঁইশাক। 

(৫) বেগুন। 

(৬) মসুরি ডাল।

(৭) বিভিন্ন খোলওয়ালা মাছ।যেমন ঃ চিংড়ি,কাঁকড়া, শামুক ইত্যাদি খাবারের ফলে আপনার শরীরে দেখা দিতে পারে বিরক্তকর এই এলার্জি।

এলার্জি থেকে রক্ষা পেতে আমাদের করণীয়

এলার্জি কেন হয়েছে তা বের কতরে পারলেই তা থেকে নিজেকে বিরত রাখার মাধ্যমে আমরা এলার্জি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ঔষধ খেলে এলার্জি উপশম করা যায়।যেসব খাবারে এলার্জি আছে সেসব খাবার পরিহার করলেই রেহায় পাওয়া যেতে পারে এই বিরক্তিকর এলার্জি থেকে।

এলার্জি র কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা 

শরীরে কোন ধরণের    এলার্জি আছে কিনা তা জানার জন্য কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা আছে।যেমন 

(১) রক্ত পরীক্ষা। 

(২) সিরাম আইজির মাএা।

(৩) স্কিন প্রিক টেস্ট।

(৪) বুকের এক্স-রে।

(৫) স্পাইরোমেট্টি ইত্যাদি। 

কোন রোগ কেই অবহেলা করা উচিত নয়। তাই যথা সময়ে যথা চিকিৎসা করাই উত্তম।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ